LifestyleHealth

দুধ চা না লিকার চা: কোনটি বেশি ক্ষতিকর?

দুধ চা না লিকার চা: কোনটি বেশি ক্ষতিকর? বৈজ্ঞানিক তুলনার মাধ্যমে জানুন দুধ চা কেন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট নষ্ট করে এবং আপনার হার্টের ঝুঁকি বাড়ায়। চা পান করার সঠিক নিয়ম ও সময় সম্পর্কে পড়ুন।

দুধ চা না লিকার চা: কোনটি বেশি ক্ষতিকর?

প্রধান প্রশ্ন: স্বাস্থ্যগত দিক থেকে দুধ চা ও লিকার চায়ের মধ্যে কোনটি বেশি ক্ষতিকর?

সরাসরি উত্তর: পুষ্টিবিদ এবং বিজ্ঞানীদের মতে, দুধ চা (Milk Tea) লিকার চা (Black Tea)-এর চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিকর। এর প্রধান কারণ হলো: ১. দুধের প্রোটিন চায়ের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয় এবং ২. এতে যুক্ত হওয়া চিনি ও অতিরিক্ত ফ্যাট হার্ট ও মেটাবলিক ঝুঁকি বাড়ায়।

বৈজ্ঞানিক শোডাউন: অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বনাম ক্যাসেইন (EEAT Anchor)

চায়ের স্বাস্থ্যগত উপকারিতার মূল কারণ হলো এতে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বিশেষ করে ক্যাটেকিনস (Catechins) বা ফ্ল্যাভোনয়েডস (Flavonoids)

  • লিকার চায়ে: এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো সক্রিয় অবস্থায় থাকে এবং হৃদপিণ্ড ও রক্তনালীকে রক্ষা করে।
  • দুধ চায়ে: দুধের প্রধান প্রোটিন হলো ক্যাসেইন (Casein)। যখন দুধ চায়ের সাথে মেশানো হয়, তখন ক্যাসেইন দ্রুত ক্যাটেকিনস-এর সাথে যুক্ত হয়ে একটি কমপ্লেক্স তৈরি করে। এই কমপ্লেক্স অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলোর কার্যকারিতা শরীরে শোষণ হওয়ার আগেই প্রায় ৭০-৮০% কমিয়ে দেয়।

অর্থাৎ, দুধ চা পান করলে আপনি স্বাস্থ্যকর পানীয় পান করার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন, কিন্তু ক্ষতিকর উপাদানগুলো ঠিকই গ্রহণ করেন।

দুধ চা বনাম লিকার চা: বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক তুলনা

তুলনা করার বিষয়লিকার চা (চিনি ছাড়া)দুধ চা (চিনি ও দুধ সহ)ক্ষতিকর মাত্রা
ক্যালোরিপ্রায় ২-৫ ক্যালোরি৬০-১০০+ ক্যালোরিদুধ চা বেশি ক্ষতিকর (ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি)।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টউচ্চ মাত্রায় সক্রিয়উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়দুধ চা বেশি ক্ষতিকর (উপকারিতা হারানো)।
ফ্যাট ও কোলেস্টেরলনেইমধ্যম থেকে উচ্চ (দুধের প্রকারভেদে)দুধ চা বেশি ক্ষতিকর (হৃদরোগের ঝুঁকি)।
অ্যাসিডিটিখালি পেটে উচ্চখাবারের সাথে কম বা মধ্যমলিকার চা খালি পেটে বেশি ক্ষতিকর।

১. দুধ চায়ের মারাত্মক ক্ষতিকর দিক (Added Risks)

দুধ চা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য একাধিক ঝুঁকি তৈরি করে, যা লিকার চা করে না:

ক. হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি

দুধ চায়ে থাকা চিনি এবং দুধের ফ্যাট (বিশেষ করে স্যাচুরেটেড ফ্যাট) দীর্ঘ মেয়াদে রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড এবং LDL (খারাপ কোলেস্টেরল)-এর মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত ঘন দুধ ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত চা পান করলে ডায়াবেটিস এবং করোনারি হার্ট ডিজিজের ঝুঁকি বাড়ে।

খ. হজমে ব্যাঘাত

অনেকেরই দুধে থাকা ল্যাকটোজ (Lactose) হজমে সমস্যা হয়। দুধ চায়ে ল্যাকটোজের উপস্থিতি এবং চায়ের অ্যাসিডিক প্রকৃতি একসাথে হজম প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে, যার ফলে পেট ফাঁপা এবং গ্যাসের সমস্যা দেখা দেয়।

২. লিকার চায়ের ক্ষতিকর দিক (Situational Risks)

লিকার চা সাধারণত স্বাস্থ্যকর হলেও, কিছু পরিস্থিতিতে এটি ক্ষতিকর:

ক. খালি পেটে অ্যাসিডিটি

লিকার চায়ে দুধের বাফারিং প্রভাব না থাকায় এর অ্যাসিডিক মাত্রা বেশি থাকে। ঘুম থেকে ওঠার সাথে সাথে খালি পেটে পান করলে এটি সরাসরি গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিডের ক্ষরণ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়, যা আলসার এবং গ্যাস্ট্রাইটিসের ঝুঁকি তৈরি করে।

খ. আয়রন শোষণে বাধা

কফি বা চায়ের ট্যানিনস আয়রন (Iron) শোষণে বাধা দেয়। যদিও দুধ চা-ও একই কাজ করে, তবে লিকার চায়ে ট্যানিনস-এর ঘনত্ব বেশি থাকায় এটি খাবার গ্রহণের সময় পান করলে রক্তাল্পতা (Anemia)-এর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত: কোনটি পান করবেন এবং কীভাবে?

আমাদের রায়: স্বাস্থ্য ও দীর্ঘমেয়াদী উপকারের জন্য চিনি ছাড়া লিকার চা সেরা। তবে এটি পান করার সময় সঠিক নিয়ম মেনে চলতে হবে।

পরিস্থিতিসেরা পানীয়পান করার সঠিক নিয়ম
স্বাস্থ্য সচেতন/ওজন কমাতে চানচিনি ছাড়া লিকার চাখাবারের ১ ঘণ্টা পর পান করুন, খালি পেটে নয়।
হৃদরোগের ঝুঁকিচিনি ছাড়া লিকার চাদুধ ব্যবহার করলে স্কিমড বা প্ল্যান্ট-বেসড মিল্ক ব্যবহার করুন।
গ্যাস্ট্রিক সমস্যা থাকলেহালকা দুধ চা (কম চিনি ও জল মিশিয়ে)এটি পেটের অ্যাসিডকে কিছুটা ভারসাম্য দিতে পারে।

পরামর্শ

দুধ চা এবং লিকার চা নিয়ে বাঙালির এই দীর্ঘ বিতর্ক হয়তো কখনোই শেষ হবে না। তবে বিজ্ঞান আমাদের এটাই বলে—আপনি যদি চায়ের প্রকৃত স্বাস্থ্য সুবিধা পেতে চান, তবে চিনি ছাড়া লিকার চা পান করুন। আর যদি দুধ চা পান করতেই হয়, তবে তা খাবার গ্রহণের পর করুন এবং চিনি ও দুধের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন। আপনার স্বাস্থ্যের দায়িত্ব আপনার হাতেই।

আপনার পছন্দের চা কোনটি—দুধ চা না লিকার চা? আমাদের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের সাথে কি আপনি একমত? আপনার দৈনন্দিন অভ্যাস কমেন্ট বক্সে শেয়ার করুন।

চায়ের কারণে অ্যাসিডিটি কমাতে আমাদের এই পোস্টটি পড়ুন: অ্যাসিডিটি কমানোর ঘরোয়া ৫টি উপায়

Back to top button
Index

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker on our website.